আল্লাহ

আল্লাহ কে? কই? আল্লাহর স্রস্টা ও অস্তিত্বের প্রমাণ এবং নাস্তিকতার অন্তঃসারশূন্যতা প্রসঙ্গ

 

 

বিজ্ঞান এর সংজ্ঞাটা কি? এর আওতা কতটুকু? বিজ্ঞান কি শুধু হাতে-কলমে প্রমাণ পাওয়ার মধ্যে সীমিত? বিগত শতকে অথবা শিল্প বিপ্লবের পর বিজ্ঞানের যে-সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, সেই সংজ্ঞার আওতায় আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব কি? মানুষের প্রজ্ঞা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আদালতে প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও অপ্রত্যক্ষ প্রমাণ কেন থাকে? অপ্রত্যক্ষ প্রমাণের মধ্যে বিজ্ঞান নেই? কেন এবং কারা বিজ্ঞানের আওতাকে সীমিত করেছে? আল্লাহকে কে বানালেন? শনাক্তকৃত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কোনো রূপ বা আকার যা বাহ্য চোখে দেখা যাবে, এমন কিছু সীমিত সংজ্ঞার বিজ্ঞান কি দিতে পেরেছে? জিরো গ্রাভিটির কারিশমা সম্পর্কে ওই বিজ্ঞানের কাছে কতোটা নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে? ইনারশিয়া শক্তিটা বিজ্ঞানীদের ঘামিয়ে তুলছে কেন? অধরা অদৃশ্য মন, সেই মনের গতি প্রকৃতি নিয়ে যত প্রকারের গবেষণা, ওগুলো কি বিজ্ঞানের আওতাভূক্ত নয়? প্রেমের মধ্যে বিজ্ঞান কি নেই?

 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবো আমরা।

 

আরো কিছু কথা আগে বলা যাক-

মনশ্চক্ষে দেখার একটি ব্যাপার আছে। বাইরের চোখের দেখা আর মনের চোখের দেখায় তফাৎও লক্ষণীয়। মানুষ দ্রষ্টা দুই তরফেই। যারা লেখালেখি করেন, তাদের এই কাজের ব্যাপারে বলা হয়, রাইটিং ইজ আ ফরম সীইং উইদ দ্য মেমরী। যারা লেখালেখি করেন না তারাও মনশ্চক্ষে দেখেন জীবন ও জগত। মুখমন্ডলের উপর স্থাপিত চক্ষু যার অকেজো বা জন্মান্ধ, তিনিও কি দেখেন না? দেখেন। জীবন ও জগতের একটা রূপ-চিত্র তার মনশ্চক্ষেও ভাসে। এটা একটা দিক। অন্যদিকে জগতে বস্তুগত প্রপঞ্চের (মেটেরিয়েলিস্টিক ফেনোমেনোন) পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রপঞ্চ (স্পিরিচুয়াল ফেনোমেনোন) বিদ্যমান। আবার বস্তুরও ম্যান্টাল এ্যাক্টিভিটি আছে। সেটা কি? E=mc2 কে ম্যান্টাল এ্যাক্টিভিটির উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়। বস্তুর ভর ও গতির বিশেষ ম্যান্টাল প্রক্রিয়া বের করে দেয় এ্যানার্জি। এ্যানার্জিটা অদৃশ্য অথচ তার উপস্থিতি আমরা টের পাই। আমরা তাকে কাজে লাগাই। এখানে একটা বিস্ময় উল্লেখ করি- (Physicists still do not know the mechanism behind E=mc2. What actually causes the mass of an object to change when it is made to go faster?/COSMOLOGY, p-57)

ইলমে তাছাউফ বা সূফী দর্শন জ্ঞান ইসলামের আভ্যন্তরিণ গুপ্ত রহস্যমুলক শিক্ষা ও চর্চা, যার একমাত্র গন্তব্য মহাবিশ্বমন্ডলের স্রষ্টা আল্লাহর সান্নিধ্য। এই শিক্ষা বা চর্চার বুনিয়াদ হলো, নবী মোহাম্মদ সঃ হাদিস- ‘মান আরাফা নাফসাহ ফাকাদ আরাফা রাব্বাহ’- যে নিজেকে চিনতে পারে সে তার রবকে চিনতে পারে।

 

শুরুতেই একটি বিস্ময়কর আলোর উপর নজর দেয়া যাক-

 

মাইক্রোস্কোপের ভেতর দিয়ে দেখা যায় the E. coli bacterial flagellum. The bacterial flagellum is what propels E. coli bacteria through its microscopic world. It consists of about 40 individual protein parts including a stator, rotor, drive-shaft, U-joint, and propeller. It’s a microscopic outboard motor! The individual parts come into focus when magnified 50,000 times (using electron micrographs). And even though these microscopic outboard motors run at an incredible 100,000 rpm, they can stop on a microscopic dime. It takes only a quarter turn for them to stop, shift directions and start spinning 100,000 rpm in the opposite direction! The flagellar motor has two gears (forward and reverse), is water-cooled, and is hardwired into a signal transduction (sensory mechanism) so that it receives feedback from its environment. (“Unlocking the Mystery of Life,” video documentary by Illustra Media, 2002.)

এখানে ব্যাকটেরিয়া পর্যায়ে একটা জৈবিক প্রকৌশল পদ্ধতি কিভাবে ক্রিয়াশীল তা দেখানো হয়েছে। আর এও দেখানো হয়েছে এই ক্রিয়াশীলতার পেছনে একটি চালিকাশক্তি বিদ্যমান। একেবারে সাধারণ জ্ঞানেই ধরা পড়ে এই জিনিসটা যে, সেনসরি মেকানিজম বা যে কোনো মোটর(Motor)সক্রিয় থাকার পেছনে একটা চালিকাশক্তি এবং ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন এর ভূমিকা থাকে। সিস্টেমটার ভেতরে যেই পার্টগুলো কাজ সারে, এর কোনো একটাকে সরাইলে পুরা সিস্টেম অকেজো। প্রত্যেকটা পার্ট আলাদা আবার কানেকটেড। (Every individual part is integral. There is absolutely no naturalistic, gradual, evolutionary explanation for the bacterial flagellum. (Michael Behe, Darwin’s Black Box, 1996.))

 

কথা বলা বা লেখা মানে প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিকতা

 

George wright চমৎকার কিছু কথা বলেছেন! আলাদা এক ধরণের আলো ফেলেছেন চেতনায়, মননে, ভাষায়।

ভাষা কী করে? ভাষার তাৎপর্য কী? ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব আদান-প্রদান করা এর মানেটা কি? কবিতা গল্প উপন্যাস নাটক ইত্যাদি কেন লেখা হয়? কেনো কথোপকথন রাগে গোস্বায় ভালোবাসায় ঘৃণায়?

বলেছেন, মানুষের সকল প্রকার কথা বলা বা লেখা মানে প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিকতা। কখনো আমরা প্রশ্ন করি কখনো উত্তর দেই। (In human language the structure is embedded in the ideas of asking and answering, which is all that we really do.

দেখা যাইতাছে-

একটা গল্প কবিতা উপন্যাস ইত্যাদি লেখা মানে প্রশ্ন করা হচ্ছে বা উত্তর দেয়া হচ্ছে। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলার অর্থ আরেকটা মনের ‘ভালোবাসো কি না’ এর জবাব। ভাষার বোধ উত্তেজিত হয় অন্যের উদ্দেশে। জ্যাক লাকাঁ’র ভাষা দর্শন আছে- ভাষা বিধি। ভাষার মধ্যে কুদরতি আছে। ভাষা অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে। চিত্রাংকন করে। এর ভেতরে পদ্ধতি আছে আবার নাইও। ভাষাটা পক্ষপাতদুস্ট। ভাষা ভিন্ন ভিন্ন। আবার এই ভাষার মানুষগুলোর মধ্যেও ব্যক্তির নিজস্ব ভাষা আছে। ব্যক্তির ব্যাখ্যায় ভিন্নতা আছে। ভাষার অক্ষমতাও আছে (লাকাঁ’র ভাষা দর্শনের দিকে যাবো না এখন, সেইটার কেন্দ্রে আছে অন্য আলোর বিচ্ছুরন।)

তিনি জানান, বিজ্ঞানীরা বলেন- scientists argue that to prove something you must eliminate or control your method of proof’s subjective qualities. Language is subjective. So then it cannot be used as a basis for any solid or provable, that means, eventually irrefutable truth or theory.

পরিশোধিত বা পরিপক্ক উন্নতমানের ধারনা (the concept of elegance) এইটা যে, প্রমান করার পদ্ধতির মধ্যে subjective qualities থাকলে নিশ্চিত সত্য বা তত্ব বের করা যাবে না।

তাইলে বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো, যেগুলো অংকের মাধ্যমে, সমিকরণের মাধ্যমে বের হয়ে আসছে, ওগুলো কি নিশ্চিত সত্য হিসাবে স্থির থাকছে? তিনি জানান, বিজ্ঞানীরা বলবে, না, থাকছে না, একটা মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রবহমান। দেখা যায়, তত্ত্বগুলো সাময়িক সত্য আকারে থাকে। তত্ত্বের দুর্বলতা বের হয়। এবং উন্নয়ন হয়।

গড প্রশ্ন রাখেন সামনে। উত্তর বের করো মানুষ

তাঁর মতে, শিল্প সংগীত ভাষা বিজ্ঞান সব যেনো একটা চক্রের মধ্যে ঘুরছে। আর সব মিলিয়ে একটা যেনো expression of some pure goal. প্রশ্ন করেন- Is the Universe organized or random? উত্তর দেন একটু ব্যাখ্যা করে, হুমম, সংগঠিত আবার অসংগঠিতও। তবে ব্যর্থতা হলো, কি সংগঠিত আর কি অসংগঠিত তা বের করা যাচ্ছে না। আর আবিস্কারগুলো যেনো This is like the story of the 1000 monkeys hammering away at typewriters for a million years. Eventually they will write a masterpiece.

তিনি গড এর উপর বিশ্বাস রাখেন। এবং গড চান মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির যথাযথ ব্যবহার করুক। গড প্রশ্ন রাখেন সামনে। উত্তর বের করো মানুষ। তিনি আরো লিখেছেন- What I see is three kinds of matter. God is truly only pure energy, light, radiation, but he can be and is represented in a pure matter called HOST. (When he so chooses.) The universe was originally composed of HOST only. Everything evolved from this.আর অপরদিকে The devil simply cannot tell the truth. He can use half-truths, or engage in logic that leads back to itself, which is witty but fruitless. বাহ! শয়তানের যুক্তি চমকপ্রদ কিন্তু নিস্ফল!

তাঁর প্রবন্ধটির সার কথা হলো, ‘আল্লাহ আছেন’ এবং ‘আল্লাহ নাই’- এই দুই প্রত্যয় সীমিত সংগার বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে, ভাষার মাধ্যমে, সমিকরণের মাধ্যমে প্রমান করার সম্ভাবনা নাই। তিনি ওই প্রবন্ধে Field Equation Proposing the gravitational force of the Human Spirit as the source of entropy. এবং

Unifying Quantum Mechanics and physics through the tool of a Semiotic (Semantic) Language Theory প্রকাশ করেছেন।

(গুগুল সার্চে ‘রিলিজিয়াস মেটাফিজিক্স’ লিখে সার্চ দিলে সর্ব প্রথম যে লিংক আসবে ওইটাতে ক্লিক করুন।)

 

আল্লাহ কোথায় ও আল্লাহর স্রষ্টা প্রসঙ্গ

 

বিতর্কগু্লোতে দেখা গেছে, স্রস্টা ছাড়া সৃষ্টি নাই এমন কথার উপরে এই কথাও আসে যে স্রস্টা তাহলে কোথা হতে এলেন? এ পর্যায়ে আমরা এ বিষয়টা দেখবো।

ধার্মিক বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস কলিনস এর সাড়া জাগানো বইটি- The Language of God: A Scientist Presents Evidence for Belief বেস্টসেলার হয়েছিলো। কেনো হয়েছিলো? হয়তো কারণ ওই ‘এ্যাভিডেন্স ফর বিলিফ’। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের এ ব্যাপারে অনুসন্ধিৎসা আছে।

কলিন্সের মতে, জগত-প্রকৃতির রহস্য উদঘাটনের নিমিত্তে বৈজ্ঞানিক অভিযানের আরেকটা অর্থ হলো, স্রষ্টার সৃজনশীল ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া। আর কলিন্স দেখছেন, গবেষণা কাজগুলোও স্রষ্টার এবাদতের সুযোগ করে দেয়।

তিনি জানান, Richard Dawkins, Sam Harris and Christopher Hitchens প্রমূখ নাস্তিক বিজ্ঞানী, তারা তাদের কথা বলছেন। তাদের মতামত সকল বিজ্ঞানীর মতামত নয়। বেশিরভাগ বিজ্ঞানী ধর্মবিশ্বাসী। কেউ কেউ একটু আলাদা রকমের ব্যক্তিগত খোদায় বিশ্বাসী। খুব অল্প সংখ্যক বিজ্ঞানী বিশ্বাসীদের আক্রমণ করে। ব্রিটিশ বায়োলজিস্ট রিচার্ড ডওকিন্স এর ‘গড ডিলুশন’ নামে একটি বই আছে, যেখানে বিশ্বাসকে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি ঈশ্বরে আস্থা স্থাপনকে মারাত্মকও বলেছেন। অথচ তিনিও ‘আল্লাহ নাই’ এর পক্ষে কোনো প্রমান দিতে পারেন নাই। আর বইটিতে ধারনাগত ভ্রান্তি আছে বলে সমালোচকেরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আমাদের কাল-স্থানে সৃজন মরণের একটা ধারণা বা জ্ঞান ক্রিয়াশীল। আল্লাহর সত্তাগত পরিচয় যদি হতো as physical, anthropomorphic, তাইলে আল্লাহর স্রষ্টা সম্পর্কিত প্রশ্ন valid হতো নিঃসন্দেহে। আর তিনি যদি এই dimensional physical world এর বাইরে থাকেন, তাইলে এই প্রশ্নের ভেলিডিটি থাকে না। সৃষ্টিতত্ব এর ক্ষমতা সৃষ্ট বিষয়াবলীর ভেতরে সীমাবদ্ধ। তার বাইরের বিষয়ের অনুসন্ধান এই তত্ত্ব চালাতে পারে না। এই ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড এর সৃজন মরণের গন্ডিতে তাঁর সত্তাগত পরিচয়টাই অধরা। তাঁর এট্রিবিউটস দেখেও তাঁকে আর্টিকুলেট করা যায় না! দেখা যাচ্ছে, If God is a being that is unlimited in time, and if He has access to every piece of time as if it were now, the question of who created God is an invalid question. The problem is like asking a student to draw a four-sided triangle. The terminology is self-contradictory.

 

কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘এরপর স্বীয় আরশের ওপর আসীন হয়েছেন ।’ (সূরা আল আ’রাফ -৫৪ ) সুরা ত্বাহা-এ বলেছেন ‘আল্লাহ তাঁর আরশের উপর’ Imaam Maalik was asked about the ayat in Surah Taha, “Allah is above His Ársh”, he answered “Being above (Istawaa) is known but the reality is unknown and – questioning that – is innovation.” Jaaluddin Suyyuti also comments on the verse saying, “Istawaa (being above) according to whatever is appropriate for Allah.” (Jalaalayn vol. 2 p. 260). (http://www.albalagh.net/qa/where_Allah.shtml) আরশের বাস্তবতা সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। তার মানে এও তো হতে পারে ওই সীমিত সংগার বিজ্ঞান যে মহাবিশ্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করছে, তার বাইরে অনেক উপর! আল্লাহ মানুষকে তথ্য দিয়েছেন/দিবেন মানুষের জ্ঞানের পরিমাপে, এইটাই কি স্বাভাবিক নয়? আল্লাহর অবস্থান সবার উপরে তার মানে আবার এই নয় যে তিনি অনেক দূরে। তিনি বান্দার খুব কাছেও। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি মানুষের অন্তরের গোপন ইচ্ছাটাও জানেন। He is Most High although He is close. He is the First (nothing is before Him) and the Last (nothing is after Him), the Most High (nothing is above Him) and the Most Near (nothing is nearer than Him).

(Click This Link)

আধ্যাত্মিক সাধকদের উদ্দেশে সূফী ওস্তাদ ইবনুল আরাবী তাঁর ‘নকশাল ফুসুস’ এর সার কথায় জানিয়েছেন- God manifests Himself to the heart of the Perfect Man, who is His vicegerent. And the reflection of the lights of His self-manifestation overflows into the world,which remains in existence by receiving this effusion (fayd).আল্লাহর গুণাবলীর ‘মেনিফেস্টেশন’ সেই মানুষের মাধ্যমে, যিনি ‘পারফেক্ট ম্যান’ এ উন্নীত; যিনি আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য হতে পারেন আল্লাহর অনুমোদিত তরিকায় চর্চার মাধ্যমে। ( http://www.ibnarabisociety.org/ )

আধ্যাত্মিক সাধনার জগত আসলে মানবীয় যৌক্তিক জ্ঞান দিয়ে বোধগম্য হওয়ার নয়। লজিক দিয়ে এর দ্বার খোলা যায় না। ওটা ভাবের জগত। ভাষার কারিশমা ওখানে পরাজিত এই অর্থে যে, ওখানে ভাবের অনুভবই অনেকটা ব্যাখ্যাতীত; ওখানে যেনো ‘সাইলেন্স’ গভীর নিবিড় ভালোবাসার কথা বলে। বলা হয়েছে, When one’s heart is purified, the manifestations of the Divine is reflected in the mirror of the heart. Only then may man ascend from the level of his animal nature to the level of the true human being. এই হার্ট হৃদপিন্ড নয়, যা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও আছে। এই হার্ট অবিনশ্বর সত্তা। মানুষের দেহে আসে এবং ছেড়ে যায়। ট্রু এসেন্স অব হিউম্যান বিঙ্গ। এই সত্তা ‘ডিভাইন স্পার্ক’। আদম সৃস্টির ইতিহাস আল্লাহ কোরআনে জানিয়েছেন এভাবে- – “And remember when thy Lord said unto the angels: Lo I am creating a mortal out of potter’s clay. So when I have made him and shaped him and have breathed into him of My Spirit, do ye fall down prostrating yourself unto him.”এই এখানে যে আল্লাহ বললেন ‘মাই স্পিরিট’, এইটাই কি সুপ্রিম Being হতে আসা human being নয়? মাটির পুতুলের প্রাণায়ন করা হয়েছে ‘মনের মানুষ’ দিয়ে! The body is made of the material elements fire, earth, air and water, and has five external senses — sight, hearing, smell, taste and touch; and five internal faculties — discursive thinking, imagination, doubting, memory and longing. All these powers, that is, both the external senses and the internal faculties, serve the heart.( http://muslim-canada.org/sufi/sufism.htm )

 

আর ম্যাটার সব সময় ছিলো কিংবা অস্তিত্ব বাই চান্স আকার পেয়েছে (জুলিয়ান হ্যাক্সলি সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিলেন), এমন সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে গেছে অনেক আগেই।

‘A third scientific proof that the atheist is wrong is seen in the second law of thermodynamics. In any closed system, things tend to become disordered. If an automobile is driven for years and years without repair, for example, it will become so disordered that it would not run any more. Getting old is simple conformity to the second law of thermodynamics. In space, things also get old. Astronomers refer to the aging process as heat death. If the cosmos is “everything that ever was or is or ever will be,” as Dr. Carl Sagan was so fond of saying, nothing could be added to it to improve its order or repair it. Even a universe that expands and collapses and expands again forever would die because it would lose light and heat each time it expanded and rebounded.’

‘Modern-day scientists like Paul Davies and Frederick Hoyle and others are raising elaborate objections to the use of chance in explaining natural phenomena.’

প্রশ্ন উত্থাপনের প্রবণতা জ্ঞানের জগতে অপরিহার্য। প্রশ্ন সিঁড়ির মতো। উপরে নিয়ে যায়। কিন্তু যে-প্রশ্নের ভেলিডিটি বা লজিক্যাল বেইস প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন? প্রশ্ন যদি হয় সেই ফিলোসফির ছাত্র-শিক্ষকের অবস্থা, শিক্ষক ক্লাসে এসে রোল-কল করছেন, ছাত্ররা প্রশ্ন ছুঁড়লো, স্যার কেমনে বলি ‘প্রেজেন্ট স্যার’? আমরা কি আসলেই আছি? ক্লাশ শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষক! তাও অস্তিত্বের প্রশ্ন! ওখানে আর জ্ঞান চর্চা কেমনে চলে!

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ব্রেইনী বিজ্ঞানী বলা হয়, ড. স্টিফেন হকিংকে। তাঁর ‘এ্যা ব্রিফ হিস্টরী অব টাইম’ সারা দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিলো। এই বইটাকে রেফারেন্স হিসাবে উল্লেখ করে ‘দেয়ার ইজ নো গড’ এর পক্ষে কথাবার্তা -বিতর্ক হয়েছে। পরে তিনি বিবিসির সাথে সাক্ষাতকারে বললেন, তাকে পাবলিক ভুল বুঝতেছে।-

An example of the pressures Hawking deals with is present in an interview with the BBC radio program Desert Island Discs, this taken from Black Holes and Baby Universes. The interviewer asks:

 

SUE: To oversimplify your theories hugely, and I hope you’ll forgive me for this, Stephen, you once believed, as I understand it, that there was a point of creation, a big bang, but you no longer believe that to be the case. You believe that there was no beginning and there is no end, that the universe is self-contained. Does that mean that there was no act of creation and therefore that there’s no place for God?

STEPHEN: Yes, you have oversimplified. I still believe the universe has a beginning in real time, at the big bang. But there’s another kind of time, imaginary time, at right angles to real time, in which the universe has no beginning or end. This would mean that the way the universe began would be determined by the laws of physics. One wouldn’t have to say that God chose to set the universe going in some arbitrary way that we couldn’t understand. It says nothing about whether or not God exists – just that He isn’t arbitrary.

 

তিনি জানালেন, ‘একটা জনপ্রিয় বই লেখার খায়েশ ছিলো আমার, এইটা লিখলাম। ওখানে ফ্লিপেন্ট ভঙ্গিতে কথা বলেছি অনেক সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যে। সারপ্রাইজ আমি পছন্দ করি।’ ওই বইসহ তাঁর আরো কিছু বই ও সাক্ষাতকার দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় হকিংয়ের অবস্থান সম্পর্কে।

 

‘আল্লাহ নাই’-এইটা প্রমানহীন মিছা কথা

 

বিশেষ উল্লেখ্য, ফ্রান্সিস কলিনস বলেন, ‘দেয়ার ইজ নো গড’ এর পক্ষে যে গোঁড়া নাস্তিক্যবাদ, ওটা দু’টি মারাত্মক যৌক্তিক ভুলের রোগে ভুগছে। এক, মহাবিশ্ব ব্যবস্থাকে বুঝার জন্যে বিজ্ঞানের অভিযান(এক্সপ্লোরিং নেচার), গড স্রস্টা হিসেবে এর বাইরে- God is at least in part outside of nature (unless you’re a pantheist). Science is limited in that its tools are only appropriate for the exploration of nature. Science can therefore certainly never discount the possibility of something outside of nature. To do so is a category error, basically using the wrong tools to ask the question.

দ্বিতীয়ত হলো- ‘the most daring dogma of the universal negative.’ ইউনিভার্সেল নিগেটিভের কোনো প্রমান নাই।

ফ্রান্সিস বলেন, ‘Now, suppose that the knowledge that demonstrates that God exists is outside your little circle today. That seems pretty plausible, doesn’t it, considering the relative scale? How then – given that argument – would it be reasonable for any person to say, “I know there is no God”? That is clearly going outside of the evidence.’

তার মানে দেখা যাচ্ছে, কট্টর নাস্তিকেরা ভুল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভুল তথ্য দিচ্ছেন! যে-সব ফেনোমেনা নিয়ে বিজ্ঞানের ঘাটাঘাটি, তার বাইরের বিষয়ের কোনো এ্যাভিডেন্স সম্পর্কে বিজ্ঞান সম্পুর্ণ অজ্ঞ। বিজ্ঞানের যতসব এ্যাভিডেন্স প্রসঙ্গ, তা মুলত মহাবৈশ্বিক ফেনোমেননের ভেতরে।

নেচারেল সিলেকশনের ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান- We have to recognize that our understanding of nature is something that grows decade by decade, century by century. But we’re still a long way from understanding the details of much of the universe around us.

গ্যালিলিও ও ডারউনের উল্লেখ করে বিজ্ঞান ও ধর্মের বিরোধ (an inherent conflict between religion and science.) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ফ্রান্সিস বলেন, ‘বিরোধ আছে বলে মনে করি না। মানুষের কল্পনায় কখনো এটা আসে যে, সুপ্রিম কেউ নেই মনে হয়। ওইটা ভিত্তিহীন। গ্যালিলিওর ট্রায়াল সম্পর্কে কিছু বিষয়ের অবতারণা করে তিনি জানান, ‘But I think it might be fair to say that Galileo’s greatest mistake was being a bit arrogant in the way he presented his own views…’

উল্লেখ্য, গ্যালিলিও প্রথমে অনড় থাকলেও পরে জান বাঁচানোর জন্যে চার্চের সাথে লড়াইয়ে নিজের মত থেকে সরে এসেছিলেন (He recanted to save his life, and lived under house arrest until his death in 1642)

বিবর্তন সম্পর্কে ফ্রান্সিস কলিন্স’র মত হলো- ”Evolution is God’s way of giving upgrades”

ফ্রান্সিস কলিন্স হিউম্যান জেনোম এর ৩.১ বিলিয়ন চিঠি পড়েছেন। তিনি জানান- I see DNA, the information molecule of all living things, as God’s language, and the elegance and complexity of our own bodies and the rest of nature as a reflection of God’s plan.

 

নাস্তিক কলিন্স কেনো ধার্মিক হলেন

 

ছাত্রাবস্থায় কলিন্স নাস্তিক ছিলেন। বিজ্ঞানে নিবেদিত এই মানুষটি আগে মনে করতেন ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারটার সাথে আবেগ জড়িত। তাঁর মনে হতো ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তর্ক করা অযৌক্তিক। কিন্তু পরে কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি ওই বিজ্ঞানের জগতে না পাওয়ায় নুতন করে ভাবতে শুরু করেন। প্রশ্নগুলো হলো- “What is the meaning of life?” “Why am I here?” “Why does mathematics work, anyway?” “If the universe had a beginning, who created it?” “Why are the physical constants in the universe so finely tuned to allow the possibility of complex life forms?” “Why do humans have a moral sense?” “What happens after we die?”

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই তিনি বিশ্বাসের পথে চলতে শুরু করেছেন।

সব শেষে C.S. Lewis এর জব্বর কথাগুলানও এখানে যোগ করি-

Science itself has proven that chaos does not naturally and normally turn into order. Life comes only from life (law of biogenesis). Things do not improve naturally as a matter of course (second law of thermodynamics). Things improve because of intelligent input. For example, the technology we enjoy in the present age is a result of human intelligence, not random chance. Science has given us a great deal, but not everything that exists can be explained scientifically.

অর্থাৎ ওই বিজ্ঞানই প্রমান করেছে, একটা বিশৃঙ্খল বা অচলাবস্থা হতে প্রাকৃতিকভাবে বা স্বাভাবিকভাবে সিস্টেম/পদ্ধতি/অর্ডার আসে না। বায়োজেনেসিসের কানুন মতে, জীবন থেকেই জীবন আসে। (জীবনহীনতা থেকে জীবন বের করার সাধ্য নাই।) থার্মোডায়নামিক্সের কানুন মতে, এমনি এমনি প্রকৌশলের মান উন্নয়ন হয় না, বুদ্ধিজাত মাল-মেটেরিয়েল ঢুকাতে হয়, অদল-বদল করতে হয়,তারপর মান উন্নয়ন হয়। বর্তমান সময়ে আমরা যে প্রযুক্তিগত সাফল্য উপভোগ করছি, এইটা মানুষের বুদ্ধিজাত চেষ্টার ফসল, হঠাৎ হয়ে যায় নি। বিজ্ঞান আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে কিন্তু বিদ্যমান সবকিছুকে ব্যাখ্যা করার সাধ্য নাই সীমিত সংগার বিজ্ঞানের।

বলা অনাবশ্যক নয় যে, প্রচলিত বিজ্ঞানের দর্শন থেকে আমরা জানতে পারি, এই বিজ্ঞান তার গবেষণা শুরু করে প্রথমেই একটা সমস্যাকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে(সায়েন্টিফিক মেথড/ স্টেটিং এ্যা প্রবলেম)। ডাটা কালেকশনের পর যখন হাইপোথিসিস গঠন করা হয় , তখন বিজ্ঞানী অনুমানের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে(In forming hypothesis, the scientist uses inductive reasoning/encyclo britanica, new edition)। আর এই অনুমান ভিত্তিক শুরুটার কোনো বাধা-ধরা নিয়ম নেই। (There is no set procedure for reasoning inductively) আমরা দেখে আসছি, বিজ্ঞানের সুত্রগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ক্রমাগত।

………………………

Francis S. Collins (born April 14, 1950), M.D., Ph.D., is an American physician-geneticist, noted for his landmark discoveries of disease genes, and his leadership of the Human Genome Project (HGP). He will be director of the National Human Genome Research Institute (NHGRI), one of the 27 institutes and centers that make up the National Institutes of Health in Bethesda, Maryland until August 1, 2008 (he announced his resignation on May 28, 2008).

তাঁর একটি বহুল আলোচিত সাক্ষাতকার ও সিএনএন এর একটি মন্তব্য প্রতিবেদন আগ্রহী পাঠক বিস্তারিত জানতে হলে সাক্ষাতকারটি এখানে- http://pewforum.org/events/?EventID=178

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s