Utshober Por full Album Lyrics

  • Lyrics: Emon Zubair, Jon Kabir (Track-15), Mark (Track-14, rap)

    Guest Voices: Chowdhury Shakib, Cryptic Fate (Track-4), Dilshad Karim Elita (Track-3, 11, 15),

    Ecee Mark Baidya, Sellout (Track-14), Zubair Malik, Flute (Track-7, 11)

উৎসবের পর

 

01. ?

এখন যুদ্ধের কথা বলে কি লাভ? ওসব কবেকার কথা, আমরা তো জিতেই গেছি; তাহলে আমরা কি সুখী?

সেই রাতে আগুন জ্বলেছিল, পুড়েছিল ঘুমন্ত শিশুরা, থরথর কাঁপছিল সবকিছু, সারিবদ্ধ মৃত্যুই যেন সত্য। নিঃস্ব মানুষেরা আজও নিঃস্বই রয়ে গেল। তাহলে ওই যুদ্ধের কি প্রয়োজন ছিল?

 

02.ও

এখন আড়ালে মুখ তোল, দেখ এখানে কেউ নেই। এখন মুখোমুখি হও, সত্যের কাছাকাছি যাও। এখন মগ্ন হতেও পার, এখন নগ্ন হতেও পার। তুমিই সবচেয়ে দুঃখী, তুমিই সবচেয়ে একা! যদিও ও বহুদূর, তাই আত্মার কাছে যাও… কেউই বুঝবে না এসব, তাই দূরে সরে যেতে পারো, সবার মাঝে শূন্যতা।

03.পরাহত

ধূলো পড়া সেই ঘর, অদৃশ্য দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে। ভিজে কাঠে শেওলা জমেছিল, বাতাসের শব্দ উঠত জানালায়। তোমার উষ্ণ বুকে চিহ্ন এঁকেছিলাম। আমার বলা হলো না, আমার ফেরা হলো না … ওখানে আঁধার বড় সামুদ্রিক, লোনা গন্ধ ভাসত বাতাসে। ছিল না আলো কাছাকাছি, শুধু তোমাতেই ভরেছিল ঘর।

04.ইচ্ছা

আমার প্রার্থনা এই, এই দুঃখের কাছে যেন নত না হই। নিজেকে ধরে রাখি জীবনের মাঝে। আমার প্রার্থনা এই, আবার যেন যাই জলের কিনারায়। স্বর্গের সিঁড়িটা যেন চিনতে পারি। আমার প্রার্থনা এই, পৃথিবীর সব ক্রোধ এক ঝড়ের রাতে ফেলে দিই সমুদ্রের জলের গভীরে।

05.অনুক্ষণ

রাত ফুরোলেই স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাবে। জানালার বাইরে এসে দাঁড়াবে ভোর। ভোরের বাতাসে মুছবে কি দুঃখ? কেউ বলে দিবে একা থাকার মানে? দুরন্ত বাতাসের ভেতর হাঁটছি আমি রোদে, কোথাও পাইনা খুঁজে পরিচিত কোন মুখ। ক্লান্ত বিকেলে শুই ঘাসের ওপর, এখনি বৃষ্টি ঝরবে আকাশ থেকে। তারপর আবার নিঃসঙ্গ রাত, রাত ভর বৃষ্টির শব্দে ডুবে যেতেও পারি। আমার ভেতরে এক নিঃসঙ্গ মানুষ, নিঃশব্দে কেঁদে ওঠে বৃষ্টির রাত শেষে।

06.উৎসবের পর

এখানে এসে দাঁড়ালে মনে পড়ে যাবে? বুকের ভেতরে হাওয়া ঘুরে উঠবে আবার! এখন রাস্তায় জমে আছে শুকনো পাতা, দিয়েছে ঢেকে হারানো পায়ের ছাপ.. সে দিনের উৎসবের আলোয় অজস্র মুখ, হৃদয়ে শান্তির নীল স্রোত বইছিল? একাকী অন্য জীবনে কেউ হারিয়ে যাচ্ছিল, হারিয়ে যাবার আগে শেষবার দেখছিল; তারপর দীর্ঘদিন ঘুমে অচেতন, কে যেন ডাক দিল আবার ফিরে যেতে। সে দিনের উৎসবের আলোয় অজস্র মুখ, হৃদয়ে শান্তির নীল স্রোত বইছিল? এখন ফিরে এসেছ সে। দু’পাশে আলোর মতন ফুটছিল এক মুখ!

07.অপমিত

আমাকে খুঁজতে তুমি কোথও যেতে চাও? আমি বৃষ্টির মাঠে নগ্ন একা ভিজি.. ডানা ঝাপটানো পাখির গন্ধে, আমার দু’পাশে বুনো ফুলের মৌতাত। আমার দু’চোখে গাঢ় কুয়াশার ঘোর, তবুও তোমার কাব্য এখনও দু’হাতে ধরা। জলের স্রোতের পাশে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি, পাতা ঝরে ঢেকে দিয়ে গেল আমায়। তবুও খুঁজবে লোকালয়ে একা? তুমি ওখানে পাবে না আমায়। একটি পাথর সরালেও পাবে তুমি, তোমার বুকের মাঝে আমায়।

08.একই রকম

এই সেই দুঃসময়, সমান্তরালে আমি। বহুদূরে তুমি, ধূসর ধূসর.. তবু ভালো লাগে, জীবন ও রোদ, মায়াবীর ক্রোধ, ঐ নীল জলস্রোত.. যেভাবে চলে যায়, ফিরেও আসে। আমি এ সবই দেখি একা বসে থেকে।

09.এই ছায়াপথে

ছায়াপথ ছেড়ে এখানে এসেছি, অথবা ছায়াপথেই রয়েছি যেন। এখানে পথের দু’ধারে ফোটে ফুল, যেখানে মেয়েটি কাঁদছে লুকিয়ে। শেষ রাতের পথে ঘুরে কবিদের ম্লান মুখ দেখি। ভালোবাসার খুব কাছেই ভালোবাসার মৃতদেহ..  ছায়াপথে এত আঁধার দেখিনি। এখানে শীতার্ত রাতে শিশুর মৃত্যু। কবির বিমর্ষ চোখে দেখি সূর্যোদয়, সূর্যটা যদিও প্রাচীন আকাশেই স্থির। শেষ রাতের পথে ঘুরে কবিদের ম্লান মুখ দেখি। ভালোবাসার খুব কাছেই ভালোবাসার মৃতদেহ.. এখানেই স্বপ্নের মৃত্যু, এখানেই ক্ষয়ে যেতে হয়। মানুষ তাকিয়ে থাকে অর্থহীন নীল শূন্যতায়।

10.রুদ্ধবোধ

দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ, দৃষ্টির পথে ঘুরছিল কেউ। খুব কাছেই ভয়াবহ স্মৃতি, পালকে রক্তের দাগ দেখি.. সময় বিরূপ হলে এমন হতেও তো পারে, ছায়া ঘনীভূত হয়ে পাথর হয়েছে.. তবু কথা কিছু আশেপাশে থাকে, এবার তেমন কিছু হতেও কি পারে?

11.শ্লোক

আমাদের যেখানে যেতে ইচ্ছে করে, সেই স্বপ্নটা মুছে দিলে কেউ মুখোশ পরবে না। নিজের ছায়ার বাইরে যাওয়া যায় না, এটা মেনে নিলে নির্ঘুম রাত কাটবে না।

কার জলে ভাসাতে গেলে ফুল? কার চোখে হয়েছ নিঃস্ব? কেন স্বীকার কর, দুঃখ চেতনার মূল?

তোমার ক্যানভাসের ওই নীল আর সাদা। অস্তিত্বে বিঁধে থাকে বিপর্যস্ত স্মৃতি। এসবই পেয়ে যাবে অন্য দিনের কেউ। তবুও আজ রাতে যেতে যাও জ্যোৎস্নার বনে?

12.৬ই সেপ্টেম্বর

যদি বলি তুমি সব তবে মিথ্যে বলা হয়। তোমাকে আমি কে ন চিনতে পারিনি? দু’চোকের আলোয় কখনও ভাসিনি। অথচ কিসের টানে জড়াই এষানে? আমি এখন মগ্ন আলোকিত আঁধারে, তোমার স্বরূপ বুঝে শিহরিত.. তবুও আমি ওই ক্ষুব্ধ চোখে নিজেকে মৃত ভাবি না.. সাদা মেঘে ভেসে ওঠে তোমার ওই মুখ। দূরে অপসৃয়মান ছায়ার মতন তুমি ক্রমশ যাচ্ছো হারিয়ে কোথায়? তোমার উষ্ণতার কাছে দাঁড়িয়ে আমি..

13.মিছিমিছি

তুমি নেই এটাই একমাত্র সত্য, অন্য সত্যেরাও আছে। আমিও তাই মিছিমিছি আছি। এই লুকোচুরি খেলা মুখোশ জগতে। তুমিও চেয়েছিলে পাথরে ফুল ফোটাতে। এখন মাঝরাত, দুঃখী বালক কাঁদে। তবুও হাঁটছে দ্যাখো শীতার্ত পথে।

14.প্রাকৃতিক

বাতাসে ফুলের সৌরভ, পাতা ঝরেছে। শীত আসবে বলে পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়েছে। শীর্ণ নদীর বুকে আজও ওঠে ঢেউ, আমি ম্লান চোখে তাই চেয়ে চেয়ে দেখি। আকাশের নীল কখনও কি নিভে যেতে পারে? পাখিরা হারাতে পারে পথের নির্দেশ কোন দিন? এ পৃথিবী কখনও কি মানুষ হারাবে? গভীর অন্ধকারে ডুবে যেতেও পারে!

15.একা

আকাশ তুমি বুঝেছ কি? হারিয়েছ তুমি সকল বাতাস। সূর্য জেনেছ কি? অন্ধকারে তুমি একা..

ছেলে, পেছনে ফিরে দ্যাখো ছায়া নেই মেঝেতে তোমার। তুমি একা। সময় জানতে চাওনি কখনও, তুমি কতটা শীতল। বিকেল, জেনে নাও তুমি, তোমার ভেতরে বৃষ্টি ঝরে। মেয়ে, পেছনে ফিরে দ্যাখো, তুমিও একা কি না? তুমি একা।

16.বিমূর্ত

তোমার উত্তাপ মিলিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। আমি ক্রমশ আঁধারে আলো অথবা বিপরীত দৃশ্যটাও সত্য.. হঠাৎ আলোর  উৎসে শব্দ শুনে ঝুঁকে দেখি..; সময় তোমাকে টানছে। বিমূর্ত জগৎ থেকে আলোতে ফিরে দেখি আঁধারে অন্য আমি। তীব্র আলোর অপেক্ষায় বসে আছে।