Artcell


Onnoshomy Lyrics Full Album

01.Onno Shomoy Lyrics
Band: Artcell
Album: Onno Shomoy

আর্তনাদে হিঁচড়ে পড়ছে
বেদনা
হৃদয়ের কলুষতার বিষাক্ততা
দূষিত করেছে আমায়
সমাজের নিত্য চাপে…
গ্রাস করেছে আমাকে
গ্রহন লেগেছে সত্তায়
দাসত্বের দাস হয়ে ফিরছি
বিবাগী পথিকের বেশে
বারে বারে একই ঠিকানায়।
মানুষ এগিয়ে যায় অন্যসময়ে
আকাশ বদলে যায় অন্য আকাশে।
দেহের বায়ু ক্রমশ ফুরিয়ে
জীবনের চাহিদা কিছু বাকি রয়ে যায়,
হৃদয়ের পাখি এখনও বন্দী খাঁচায়
জীবনের সীমানা দূরে দেখা যায়
মুক্তির সিঁড়ি পেরিয়ে
কে বা কার দেখা পায়
দাসত্বের দাস হয়ে ফিরছি
বিবাগী পথিকের বেশে
বারে বারে একই ঠিকানায়।

02.Bhul Jonmo Lyrics
Band: Artcell
Album: Onno Shomoy


 আমি জন্মাতে দেখেছি
 জীবনের সব ভুলগুলো
 জীবন ভুল না হতে পারে
 হয়ত সময় ভুল ছিল
 সময়ের ভুলে জীবন মঞ্চে
 অভিনয় করছি আমি
 নষ্ট হচ্ছে স্বকীয়তা
 ক্রমশ নষ্ট হচ্ছি আমি(২)

তবু চিৎকার যখন অর্থহীন আর্তনাদ
 প্রতিবাদ কোন দুর্বোধ্য ভাষা
 সবাই যখন আদিম উল্লাসে মত্ত
 ভুল জন্ম তোমাকে জানাই বিদায়

স্বপ্ন মঞ্চে মেলানো যায়না জীবন
 অলীক স্বপ্নে বদলায় না বাস্তবতা
 সময় বদলায়, বদলায় এ জীবন
 ধীরে ফিকে হয়ে যায় আমার এ অস্তিত্ব

ভুলের বেসাতি শেষ হয়ে যাক এবার
 কষ্টে ডুবে থাকা নয়
 নয় আর হাহাকার
 আমার দ্বৈত স্বত্তা
 করছে আজ অস্বীকার
 সময় তাকিয়ে দেখো
 পরিবর্তন বাস্তবতার

চোখের কোণে লেগে থাকা স্মৃতি
 ঘুমের মত তীব্র ভালবাসা
 আলিঙ্গনে নিমগ্ন শূন্যতা
 ভুল জন্মে আমার অসারতা……..

 

 


 


পথচলা



আমার পথচলা আমার পথে যেন বেলা শেষে আকাশ কার মোহে
 আমার স্বপ্ন আমার সাথে যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে,
 খুঁজে পায় জীবনের তীর জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে।

আমি কার আশাতে ছুটে চলি পথে পথে
 যেন তার মায়াতে বাঁধা পড়েছে জীবন যে,
 কত সুখ কল্পনা, কত মিথ্যে প্রলোভন
 কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ শোনায় তার আহবান।

আমার আলোয় আলোকিত হতে চেয়ে আঁধারে মিলিয়ে
 আমার স্বপ্ন আমার সাথে যেন স্বপ্নে ফিরে আসে স্বপ্ন হয়ে,
 খুঁজে পায় জীবনের তীর, জীবনকে কোনো স্বপ্ন ভেবে।

আমি আজ নেই তবুও কত সুর ওঠে বেজে তোমার ওই গানের মাঝে
 এই পথ গেছে মিশে আমার বেলা শেষে
 স্বপ্ন ফিরে আসে পৃথিবীর দূর দেশে,
 জীবনকে কোন এক স্বপ্ন ভেবে।

হুঙ্কারের অপেক্ষায়
চেয়ে আছে পৃথিবী
 জেগে আছে কোটি চোখ
 থমকে আছে চারপাশ
 করতালির অপেক্ষায় (২)

এই সময় সেই সময়
 চেতনার এই ক্ষণে
 আকাশ বাতাস জেনে গেছে
 হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

আমার শিরায় জ্বলে আগুন
 রুদ্ধশ্বাসে পুড়তে চাই
 আমার চোখে ঝড়ো মিছিল
 স্লোগানে বদ্ধ উপমায়।

দীর্ঘ যুগের জমানো সাধ
 জমে আছে আমারি গায়
 আমার স্বত্তা চিৎকার করে
 জাগবে সারা বিশ্বময়।

জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও
 আলোর কথা
 জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও
 বাংলাদেশকে জেনে যাও

চেয়ে আছে পৃথিবী
 জেগে আছে কোটি চোখ
 থমকে আছে চারপাশ
 করতালির অপেক্ষায়

এই সময় সেই সময়
 চেতনার এই ক্ষণে
 আকাশ বাতাস জেনে গেছে
 হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

উড়ে যাক দমকা হাওয়ায়
 দুঃখ ক্ষরা যন্ত্রণা
 জেগে উঠুক আমার দেশ
 লাল সবুজের পতাকায়

চমকে উঠুক পৃথিবী আজ
 চমকে উঠুক স্বপ্নরা
 থমকে তুলুক নীল আকাশ থেকে
 গর্জে উঠুক বিজয়ে

জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও
 আলোর কথা
 জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও জেনে দাড়াও
 বাংলাদেশকে জেনে যাও

চেয়ে আছে পৃথিবী
 জেগে আছে কোটি চোখ
 থমকে আছে চারপাশ
 করতালির অপেক্ষায়

এই সময় সেই সময়
 চেতনার এই ক্ষণে
 আকাশ বাতাস জেনে গেছে
 হুঙ্কারের অপেক্ষায়!

বরাবরের ভুল বাড়িয়ে
 অনেক সময় ডুড়েছি
 আমার দিকে নির্দেশ করে
 অনেক কথাই শুনেছি

আমার দেশে আমার মানুষ
 থেমে যেতে আসেনি
 সূর্য যখন হাতের মুঠোয়
 তোমরা কি তা দেখোনি?(২)

চেয়ে আছে পৃথিবী
 জেগে আছে কোটি চোখ
 থমকে আছে চারপাশ
 করতালির অপেক্ষায়…

এই সময় সেই সময়
 চেতনার এই ক্ষণে
 আকাশ বাতাস জেনে গেছে
 হুঙ্কারের অপেক্ষায়…

অলস সময়ের পাড়ে
অলস সময়ের পাড় ধরে হাঁটছি,
 ঢেউ এসে পড়ে পৃথিবীর শব্দ ও নীরবতায়,
 ভাঙে অন্ধকার আলো ছায়ায় মাখামাখি পৃথিবী।

স্বপ্নের পাড়ে একা একা হাঁটছি…

আলোর কার্নিশে জমে দিন,
 রাতের নিশাচর নিঃশ্বাসে মেশে মদ,
 আজও মাতাল আমি পথভ্রষ্ট কবি।

পৃথিবীর কোলাহলে একা একা হাঁটছি…

অসাড় কথার শেষে আরও কথা থাকে শব্দহীন অনুচ্চারে,
 ঝড়ের হাওয়ায় ভেঙে যায় অন্তমিল,
 দু’জনার মিথ্যে আবেগে পড়ে থাকে মৃত নদী।

জীবনের পাড় ধরে আজও একা হাঁটছি…

অলস সময়ের সৈকতে ঢেউ এসে পড়ে স্বপ্ন জুড়ে,
 ভেঙে দেয় ছায়ার মত তুমি,
 রোদের আকাশে ভেঙে যায় মেঘের স্বপ্নপুরী।

পৃথিবীর কোলাহলে তুমি আমি হাঁটছি…

স্বপ্নের পাড়ে একা একা হাঁটছি।
 পৃথিবীর কোলাহলে একা একা হাঁটছি।
 জীবনের পাড় ধরে আজও একা হাঁটছি।
 পৃথিবীর কোলাহলে তুমি আমি হাঁটছি।

অবশ অনুভুতির দেয়াল
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়,
 তবুও তোমার টুকরো ছায়ায় ডুবে আছে কত মিথ্যে আগুন,
 অন্ধকারময় কত স্মৃতি কত সময়।

তোমার জন্য পৃথিবীতে আজকে ছুটির রোদ,
 নিজের মাঝে তোমায় খোঁজা,
 আকাশ নীলে তাকিয়ে থাকা।

তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়
 মেঘাচ্ছন্ন ব্যাস্ত ঢাকায়,
 মানুষগুলো শূন্য চোখে দুঃখ দ্বিধায়
 আকাশ পানে তাকায়।

তোমার জন্য পৃথিবীতে থেমে যায় সময়,
 আমার দেহে রাত্রি নামায় মিথ্যে আগুন অন্ধকারময়,
 ভিড়ের মাঝে আবার ভীড়ে
 আমার শরীর মেশে কোলাহলে
 দুঃখ ভুলে মিশে যাই মুখোশ স্রোতে।

অনেক দূরের একলা পথে ক্লান্ত আমি ফিরি তোমার কাছে,
 মুখোশ খুলে বসে রই জানলা ধরে,
 আমার গানের শব্দ সুরের অন্তরালে তোমায় আঁকি কান্না চেপে
 মহাকালের ক্লান্ত পথে।

তোমার জন্য বৃষ্টি ঝরে আমার লেখায়
 আলোর মত মিথ্যে ছায়ায়,
 পাথর হয়ে ঘুরে মরে আমার হৃদয়
 কত স্মৃতি, কত মিথ্যে ভয়।

তোমার জন্য গলার ভেতর আতকে থাকে ক্রোধ
 আমার চোখে স্মৃতির ঘোলা জল,
 নির্জনতায় তোমার কোলাহল।

তোমার না থাকা অস্তিত্ব রয়ে গেছে আমার নিঃশ্বাসে,
 ফেলে আসা এই পথে দুজনেই একসাথে,
 আমার অবশ অনুভুতির দেয়াল জুড়ে কত সময়
 হেঁটে এসে আমরা দু’জন
 হারিয়েছে পথ কোথায় কখন।

আমার দেহে খুঁজে ফিরি তোমার অনুভূতি
 তোমার চোখের দূরের আকাশ মিশে থাকে রূপক হয়ে,
 তোমার জন্য বিষণ্ণ এক নিথর হৃদয়
 আমার ভেতর দাঁড়ায় সরব একা।

তোমার পৃথিবী স্বর্গের মত চির অদেখা,
 তোমার জন্য পথ হারিয়ে অজানায়,
 তবুও তোমার লেখায় কথায়,
 ফেরে ক্লান্ত আমার অলস সময়,
 কত স্মৃতি কত অন্ধকার ভয়।

কৃত্রিম মানুষ
কালো মেঘে ঘেরা পৃথিবীতে কৈশোর বয়সে
 আমি শিখেছি নিজেকে চিনতে অন্যের দৃষ্টিতে।
 যাযাবর আমি পৃথিবীতে মানুষের রূপ ধরে
 আমি দেখেছি মানুষের হাতে গড়তে দেবতারে।
 অন্যায় আর অবিচারের কালিমা বুকে নিয়ে
 আকাশ এখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে ভুলে গেছে।
 সব সকাল রাতেরি মাঝে বিলীন হয় অবশেষে
 মানুষ শুধু বেঁচে থাকে অন্য মানুষের মাঝে।

বিষাক্ত বাতাস চারদিকে…
 আমাকে আঁকড়ে ধরে আছে আমার আত্মবিশ্বাস
 বাস্তবতার আঘাতে ভেঙ্গে গেছে স্বপ্নগুলো,
 রাতের অন্ধকারে চারদিকে এখন শুধু হাহাকার শুনি।

আমাকে ছেড়ে গেছে চলে আমার অতীত স্মৃতিগুলো
 আমার দেহে আছে পড়ে অপমানের শত চিহ্ন,
 এখনো আমি আছি বেঁচে যেন কৃত্রিম মানুষ হয়ে
 আমার চারিধারে জ্বলছে আগুন আমারি জ্বালানো।

ইতিহাস (সময়+অদৃষ্ট)
(সময়)
 আজ আমি আলোছায়া আজ আমি অন্ধকার
 সময়ের হারানো পথে আজ ভেঙেছে ঘুম চেতনার।
 পৃথিবীর কোলাহল নির্জনে আপোষের এ বেঁচে থাকা
 পেছনে ফেলে ইতিহাস যাবে না ভাঙা চার দেয়াল।
 কুয়াশা ঢাকা স্বপ্ন আমার খুঁজে ফিরি ধুসর সীমানায়
 বদ্ধ ঘরে আলোছায়ায় থমকে থাকি নির্জনতায়।
 হয়নি পাওয়া কিছু আর শুধুই অন্ধকার
 আজ আমিই এক শূন্যতা,
 তবুও চেয়ে রই মুক্তির আশায় শান্তির আশায়।

(অদৃষ্ট)
 বিধাতারই একটু ইশারায়
 ভেঙে গেছে স্বপ্ন অসহায়,
 পথিকের মত খুঁজে ফিরি
 পথে পথে করুণা।
 সত্য যা দেখ সবই
 মিথ্যের মায়াজালে ঘেরা,
 আমাদের সাথে ছলনা
 অদৃষ্টের করা।

রাহুর গ্রাস
শূন্যতায় এঁকেছি গভীরতা
 দৃপ্ত নেশায় উন্মাদ স্বচ্ছতা
 জানিনা জীবনের সেই সলতে কোথায়
 ঝড়ো বাতাসেও প্রদীপ জ্বালায়
 স্বপ্নঘোর এ ধরায়
 মগ্ন এক বিলাসিতায়।

পাষণ্ড এ জীবনের কোথায় শেকল গাড়া?
 ব্যর্থ ও শৃঙ্খলিত মনে তারই ছায়া,
 পাপের দংশনে দংশিত এ রক্ত ধারা
 শেষ প্রহরে শ্বাসরুদ্ধ রাহুর ছায়া।

স্বপ্নের ছায়ায় কারও উষ্ণতায়
 ঝাপসা সুখে অশ্রু ঝরায়
 অস্তমিত ঐ রবির শেষ আলোকছটাও বিলীন,
 ক্লান্ত এক যুবা উদ্ভ্রান্ত মৌন-মলিন
 দুর্ভোগের উপহাস কিসের শব্দে? কিসের উষ্ণতায় ?
 ঘনঘোর আঁধার-কোলে ছোটে গন্তব্য শূন্যতায়.

মুখোশ
মুখোশে আমায় যেমন দেখ
 পরিচ্ছন্ন তোমার মত,
 মুখোশে আমার শরীর ঢাকা
 তোমার চোখেও মুখোশ আঁকা।

যতই মিথ্যের দেয়াল গড়ি
 তোমার আমার চারিপাশে,
 নিজের আয়নায় মুখোশবিহীন
 পড়ে থাকি গল্প শেষে আমি।

জানালার ভেতরে বাহিরে
 দুজন দেয়ালের কাছাকাছি যাই,
 দেয়ালে বাঁধা সস্তা জীবন
 নিজের আয়নায় একলা দাঁড়াই।

মুখোশে যাকে তুমি চেন
 চেন না যাকে মুখোশ বিহীন,
 আমরা দুজন সত্য পুরুষ
 নিজের ভেতর দুজনেই পরাধীন।

শূন্যতায় প্রশ্ন থেকে দাঁড়ায় মনের খোলা ঘরে,
 দেয়ালে চৌকাঠে আয়নায় কে সত্য? তুমি না আমি?

রূপকঃ একটি গান
মনের ভেতর যুদ্ধ চলে আমার সারাক্ষণ
 নেশার মতন থমকে থাকে ক্লান্ত এ জীবন।
 ধ্বংস স্মৃতির পারে বসে আমার আহবান
 দুঃখ ভুলে নতুন করে লিখছি তোমার এ গান।
 মিছিল ভাঙ্গা নির্জনতায় দাড়িয়ে একা
 আলোর নিচে অন্ধকারে স্মৃতির দেখা।
 চার দেয়ালের শব্দগুলো এখন শুধুই ছাই
 মেঘে ঢাকা শহরটাতে তুই কেবল নাই।

মনের ভেতর ভাঙ্গা গড়ার আদিম আয়োজন
 শূন্যতায় ডুবে থাকে আমার সারাক্ষণ।
 নিয়ম ভাঙ্গার মগজ জুড়ে এখন শুধুই ছক
 তেপান্তরের নির্বাসনে হারিয়ে গেছে রূপক।

মনেই যুদ্ধ আমার নিজের সাথে লড়ি
 স্মৃতির দেয়াল ছুঁয়ে হাজার মূর্তি গড়ি।
 চোখের দেখায় যা দেখি আর হয়নি যা দেখা
 অভিমানের নদীর তীরে দাড়িয়ে থাকি একা।

ভুল জন্মে কষ্ট আমার লেখার আপোষে
 অদেখা এক স্বর্গ ভাসে অচেনা আকাশে।
 মনের ভেতর যুদ্ধ এখন আমার সারারাত
 অন্ধকারের কোলাহলে ধরেছি তোমারই হাত।

একলা ভীষণ আমার ঘরে স্মৃতির হাহাকার
 আলোয় চাইছি নিভিয়ে দেব মলিন অন্ধকার।
 মনের ভেতর যুদ্ধ চলে আমার সারাক্ষণ
 মহাকালে মিলিয়ে গেলি হঠাৎ কখন।

ভুল জন্ম
আমি জন্মাতে দেখেছি জীবনের সব ভুলগুলো
 জীবন ভুল নাও হতে পারে হয়তো সময় ভুল ছিল।
 সময়ের ভুলে জীবনমঞ্চে অভিনয় করছি আমি
 নষ্ট হচ্ছে স্বকীয়তা ক্রমশঃ নষ্ট হচ্ছি আমি।

তবুও চিৎকার যখন অর্থহীন আর্তনাদ
 প্রতিবাদ কোন দুর্বোধ্য ভাষা
 সবাই যখন আদিম উল্লাসে মত্ত
 ভুল জন্ম তোমাকে জানাই বিদায়।

স্বপ্নমঞ্চে মেলানো যায় না জীবন
 অলীক স্বপ্নে বদলায়না বাস্তবতা,
 সময় বদলায়, বদলায় এ জীবন
 ধীরে ফিকে হয়ে যায় আমার এ অস্তিত্ব।

ভুলের বেসাতি শেষ হয়ে যাক এবার
 কষ্টে ডুবে থাকা নয় নয় আর হাহাকার,
 আমার দ্বৈতসত্ত্বা করছে আজ অস্বীকার
 সময় তাকিয়ে দেখ পরিবর্তন বাস্তবতার।

চোখের কোণে লেগে থাকা স্মৃতি,
 ঘুমের মতন তীব্র ভালোবাসা,
 আলিঙ্গনে নিমগ্ন শূন্যতা,
 ভুলজন্মে আমার অসাড়তা।

অন্যসময়
আর্তনাদে হিঁচড়ে পড়ছে বেদনা
 হৃদয়ের কলুষতার বিষাক্ততা দুষিত করেছে আমায়,
 সমাজের নিত্য চাপে গ্রাস করেছে আমাকে
 গ্রহন লেগেছে স্বত্তায়।
 আর্তনাদে হিঁচড়ে পড়ছে বেদনা
 হৃদয়ের কলুষতার বিষাক্ততা দুষিত করেছে আমায়,
 সমাজের নিত্য চাপে গ্রাস করেছে আমাকে
 গ্রহন লেগেছে স্বত্তায়।

দাসত্বের দাস হয়ে ফিরছি বিবাগী পথিকের বেশে
 বারে বারে একই ঠিকানায়,
 বিবাগী পথিকের বেশে
 বারে বারে একই ঠিকানায়।

মানুষ এগিয়ে যায় অন্যসময়ে,
 আকাশ বদলে যায় অন্য আকাশে।

দেহের বায়ু ক্রমশ ফুরিয়ে
 জীবনের চাহিদা কিছু বাকি রয়ে যায়,
 হৃদয়ের পাখি এখনও বন্দী খাঁচায়
 জীবনের সীমানা দূরে দেখা যায়,
 মুক্তির সিঁড়ি পেরিয়ে কে বা কার দেখা পায়।

দাসত্বের দাস হয়ে ফিরছি বিবাগী পথিকের বেশে
 বারে বারে একই ঠিকানায়,
 বিবাগী পথিকের বেশে
 বারে বারে একই ঠিকানায়।

বাংলাদেশ..স্মৃতি ও আমরা
এখানে নত সময়ে বোবা শহর ফেটে পড়ে
 বাকরূদ্ধ মানুষের রূদ্ধ ক্রোধে,
 গ্রেনেডের নীরবতা থেমে আছে
 কবে আবার মিছিল হবে?

স্বপ্নের অনাগত অদেখা জুড়ে
 সময়ের বিপন্ন অস্থিরতা,
 অন্ধ মানুষ পায়ে হেঁটে শহীদ স্মৃতির হিম মিনারে
 তবুও আসে ভালবেসে।

এখানে বেড়ে ওঠে শহীদ মিনার,
 পুস্প স্বদেশ স্বপ্নহীন একা আঁধার।

মৃত মানুষ অচেনা ভয়ে মাতৃভূমির ছায়াগারে,
 বেঁচে থাকে গ্রেনেডের গ্রথিত গর্জনে।

তোমাদের ভুল শব্দে লেখা স্বপ্নগুলো জানালা বদ্ধ ঘরে,
 বাতাসের অনাহারে বেঁচে আছে আহত বাংলাদেশ,
 স্বাধীনতা লেগে আছে তবুও বিকেলের বৃদ্ধ রোদে
 মানুষের মিছিলে আজও জেগে আছে মাথা তুলে শহীদ একুশে।

এখানে নত সময়ে বোবা মানব অন্ধ চোখে
 শহীদ স্মরণ করে হেঁটে হেঁটে,
 নিজের স্মৃতির অন্ধকারে ফিরে আসে,
 ফিরে আসে…

ছেঁড়া আকাশ
ছায়ার বর্ণমালা আলোর কাছাকাছি আসে
 আলোর রুদ্ধ আকাশ আঁকে মৃত্যু শূন্যতায়।

একা একা তবুও দূরের দূরত্ব ভেঙে
 সকল স্মৃতির ছেঁড়া মেঘ ভাসে।

ছায়ায় আঁকা স্মৃতির ঘরে
 ভয়ের মতন অন্ধকারে,
 আলোয় আঁকা রুদ্ধ আকাশ
 মৃত্যু এঁকে রাখে।

তবুও ঘড়ির বদ্ধ সময়
 শরৎ খোঁজে নীল আকাশে,
 স্মৃতির পায়ে শেকল বেঁধে
 সময় দাঁড়ায় শরীর ঘেঁষে।

সরব শব্দ সুরে অরব শূন্যতা ভাঙে
 মানুষ মৃত ত্রিমাত্রিক বোধে ছায়ার সারথি গড়ে,
 সবুজ পৃথিবীর হাজার শহর শেষে
 একা মানব মুখোশ বেঁচে থাকে।

ছায়ায় আঁকা স্মৃতির ঘরে
 ভয়ের মতন অন্ধকারে,
 আলোয় আঁকা রুদ্ধ আকাশ
 মৃত্যু এঁকে রাখে।

তবুও ঘড়ির বদ্ধ সময়
 শরৎ খোঁজে নীল আকাশে,
 স্মৃতির পায়ে শেকল বেঁধে
 সময় দাঁড়ায় শরীর ঘেঁষে।

ছায়ায় আঁকা স্মৃতির ঘরে
 ভয়ের মতন অন্ধকারে,
 আলোয় আঁকা রুদ্ধ আকাশ
 মৃত্যু এঁকে রাখে।

নির্মর ভাবনার পাথর ঘরে
 যুদ্ধ আসে যুদ্ধ আসে,
 মানুষ মুখোশ অগোচরে
 আলো দিয়ে ছায়া আঁকে।

ছায়ার বর্নমালা ছায়ার কোরাসে
 যুদ্ধ আসে যুদ্ধ আসে,
 কাঁটাতারে ছেঁড়া আকাশ বিঁধে আছে
 স্বপ্নজুড়ে কে মৃত্যু এঁকে রাখে?

স্বপ্নের কোরাস
তোমার চেতনায় আজ সাগরের পদধ্বনি
 অতীত ঘুরে এসে বিচূর্ণ আজ তোমার নীল আকাশ,
 তোমার ভাবনার চেনা অচেনা পথে কাঁটাতার ব্যারিকেড
 সামরিক পদাঘাতে ধর্ষিত আজ তোমার বিবেক।

স্বপ্ন দেখ অন্ধ চোখে…

তোমার গানের মৃত শরীর
 পড়ে থাকে গভীরতায় মুখ থুবড়ে স্বপ্নের মৌনতায়
 সামরিক বেয়নেটে বিকলাঙ্গ আজ তোমার বিবেক।

চিৎকার কর নিরুচ্চারে..

তোমার আকাশে তবুও অনেক গাঙচিল
 যাদের বুকে বৃষ্টি
 তোমার চেতনায় সামরিক পদধ্বনি।

বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে কারা?

চিলে কোঠার সেপাই
যা দেখ যা দেখনা
 ভাঙ্গে যত অনুভূতি চেনা অচেনা,
 তোমার অনাগত সম্ভাবনায় জমে
 ঘুণপোকার আর্তনাদ।

তোমার নীল আকাশ শূন্য চোখে চেয়ে থাকে
 অন্ধকার দেয়ালে,
 তোমার আলো জন্ম দেয়
 মিথ্যে ছায়াকে সম্মোহিত সময়ে।
 তোমার জানালায় নীল আকাশ
 আঁধারে নয় আলোতে ভয় দৃশ্যগুলো শব্দময়
 শূন্যতার ভিড়ে হারিয়েছে স্তব্ধ সময়
 স্বপ্নময় ঘুমে নয় শব্দগুলো দৃশ্যময়
 শূন্যতায় নির্বাসিত রয় স্তব্ধ সময়।

ছায়াদের বাঁধা চোখে চোখে ফেরে
 সময়ের নির্বাসিত নীল আকাশ,
 অন্ধকার ভেঙে গড়ে আজ
 শব্দ করে এই ইতিহাস।

তোমার নীল আকাশ শূন্য চোখে চেয়ে থাকে
 অন্ধকার দেয়ালে,
 তোমার আলো জন্ম দেয়
 মিথ্যে ছায়াকে সম্মোহিত সময়ে।
 তোমার জানালায় নীল আকাশ
 আঁধারে নয় আলোতে ভয় দৃশ্যগুলো শব্দময়
 শূন্যতার ভিড়ে হারিয়েছে স্তব্ধ সময়
 স্বপ্নময় ঘুমে নয় শব্দগুলো দৃশ্যময়
 শূন্যতায় নির্বাসিত রয় স্তব্ধ সময়।

তোমার মৃত শব্দের দৃশ্য আজও ওড়ে,
 বাতাসে বিগত সময় শব্দ করে।
 ভুলের চেনা শরীর চেনেনি তোমাকে,
 এখানে কে দাঁড়ায় ছায়ার মিছিলে?

একই শরীর একই সময়
 কেন তবুও এই পথের শেষে জড় অনুভূতি?
 কেন মেঘে ঢাকা পড়ে ছেঁড়া আকাশ?

আঁধারে নয় আলোতে ভয় দৃশ্যগুলো শব্দময়
 শূন্যতার ভিড়ে হারিয়েছে স্তব্ধ সময়
 স্বপ্নময় ঘুমে নয় শব্দগুলো দৃশ্যময়
 শূন্যতায় নির্বাসিত রয় স্তব্ধ সময়।

অস্তিত্বের দিকে পদধ্বনির সম্মোহন
ক্ষত-বিক্ষত পৃথিবীটা বধির অস্ত্রের উচ্চারনে মুখরিত নির্জীব
 পড়ে থাকো তুমি দেয়ালের পদতলে,
 যদি তুমি আপোষ কর
 পিছু হটা পদধ্বনি ক্রমাগত সরে আসে
 নিঃসঙ্গ সম্ভাবনার দিকে,
 দ্রুতগতির নিঃসঙ্গ ট্রেন।

ক্ষত-বিক্ষত পৃথিবীটা স্বপ্নহীন সম্মোহনে বিষণ্ণ নীল
 পড়ে থাকো তুমি সময়ের পদতলে,
 যদি তুমি আপোষ কর
 সময়ের ক্লান্ত শরীর ক্রমাগত সরে আসে
 নিঃসঙ্গ সম্ভাবনার দিকে,
 দ্রুতগতির নিঃসঙ্গ ট্রেন।

তোমার অস্তিত্বের জিজ্ঞাসা নিয়ে ছোটে আগামীর শূন্যতায়
 যদি তুমি উঠে আসো শৃঙ্খলিত মিছিল ভেঙ্গে।
 এখানে শুধু বাকরুদ্ধ দেয়াল
 দেয়ালে তোমার আমার করুণ ক্রীতদাস ছায়া,
 ছায়ার শরীর।

অশরীর তুমি পরাজিত জীবনের অচেনা নায়ক উঠে এসো আজ
 তোমার রুদ্ধদ্বার অন্ধকার হতে অস্তিত্বের মৃত প্রাণ,
 আবার উচ্চারিত হোক সময়ের বধির দেয়ালে।

অপ্সরী
আমি কার ভুলে ছিলাম ভুলে
 এক রক্তমাংসের অপ্সরী,
 খুঁজে ফিরি অপুর্ণতায় পূর্ণতা
 জীবনের সাথে লুকোচুরি।

মনে পড়ে তুমি ছিলে পাশে
 এখনও যেভাবে আছো জড়িয়ে,
 তবুও নীরবে তোমায় স্মৃতিচারণ
 সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে।

তুমি এলে উৎসবে সাজবে নতুন আকাশ,
 বাতাসে ভাসবে অজানা অবাক উল্লাস,
 তোমার ভেতর জন্ম নেব আমি
 মুছে ফেলে দু’জনার আলাদা নিঃশ্বাস।

তুমি আমার জন্য এনেছিলে স্বর্গ
 শোনাতে নতুন কোন মুর্ছনা,
 তুমি অবাক নিঃশ্বাসে গিয়েছিলে বলে
 পৃথিবীর ওপারে আরেক পৃথিবী।

আমার নিঃশ্বাসে ছিল মিথ্যে আগুন
 চেতনায় কত মিথ্যে অসীমতা,
 অতৃপ্তি নিয়ে সাজাতে সুখের জীবন
 জন্মান্তরের ভুলে ছিল স্বাধীনতা।

দুঃখ বিলাস
তোমরা কেউ কি দিতে পারো
 প্রেমিকার ভালবাসা?
 দেবে কি কেউ জীবনে
 উষ্ণতার সত্য আশা?

তোমরা কেউ কি দিতে পারো
 প্রেমিকার ভালবাসা?
 দেবে কি কেউ জীবনে
 উষ্ণতার সত্য আশা?

ভালবাসার আগে
 নিজেকে নিও বাজিয়ে,
 আমার মনের মত
 নিও সাজিয়ে।

আমি বড় অসহায় অন্যপথে
 একটি নাটকই দেখি,
 মহাকালের মঞ্চে।

ও আমায় ভালবাসেনি
 অসীম এ ভালবাসা ও বোঝেনি,
 ও আমায় ভালবাসেনি
 অতল এ ভালবাসা তলিয়ে দেখেনি।

তোমরা কেউ কি করবে
 আমার জন্য অপেক্ষা?
 ভালবাসবে শুধুই আমায়
 করবে প্রতিজ্ঞা?

তোমরা কেউ কি করবে
 আমার জন্য অপেক্ষা?
 ভালবাসবে শুধুই আমায়
 করবে প্রতিজ্ঞা?

ভালবাসার আগে
 নিজেকে নিও বাজিয়ে,
 আমার মনের মত
 নিও সাজিয়ে।

আমি বড় অসহায় অন্যপথে
 একটি নাটকই দেখি,
 মহাকালের মঞ্চে।

ও আমায় ভালবাসেনি
 অসীম এ ভালবাসা ও বোঝেনি,
 ও আমায় ভালবাসেনি
 অতল এ ভালবাসা তলিয়ে দেখেনি।

এত ভিড়েও আজও আমি একা
 মনে শুধুই যে শুন্যতা,
 এত ভিড়েও আজও আমি একা
 মনে শুধুই যে শুন্যতা,
 আঁধারে যত ছড়াই আলো
 সবই আঁধারে মিলায়,
 ও যে কোথায় হারালো
 ব্যাথা কাকে যে শুধাই?

অদেখা স্বর্গ
এই ঘরে ফেরা
 নিজেকে ফিরে দেখা আয়নাতে
 কার মায়ায়?
 আঁধারে আলোছায়া আমার সাথে চলে
 তোমাকে নিয়ে একা।

অজানা যে আকাশে ওড়ে
 অদেখা কোনো স্বর্গ আমার,
 না পাওয়া তবুও পথ দেখায়
 আশাতে হতাশা ভোলায়।

যতবার জন্মেছি তোমারই আশাতে,
 ততবারই আমার এ ফিরে চলা,
 দূর থেকে দেখা আমার ভালবাসা।

অজানা যে আকাশে ওড়ে
 অদেখা কোনো স্বর্গ আমার,
 না পাওয়া তবুও পথ দেখায়
 আশাতে হতাশা ভোলায়।

আমার ঘৃণা তোমাকে পোড়াবে না
 দেখাবে স্বপ্ন,
 আমার দুঃখ তোমারই আকাশে
 মেঘ হয়ে কাঁদবে না,
 আমার ফেলে আসা দুঃস্বপ্নের রাত
 যত কষ্টের স্মৃতি,
 তোমার জন্য বাঁচতে শেখাবে
 মৃত্যু হয়ে ছোঁবে না,
 কত মিথ্যে অভিনয়ে গড়া
 এ জীবন অচেনা ছোঁয়ায়।

অজানা যে আকাশে ওড়ে
 অদেখা কোনো স্বর্গ আমার,
 না পাওয়া তবুও পথ দেখায়
 আশাতে হতাশা ভোলায়।

স্মৃতির স্মারক
তোমার ঘরে যত কথায় যত সুরে
 আমাদের এ জ্ঞানের শহর শব্দ করে,
 আলো ভেঙে অন্ধকারের মাঝে ফিরে যেতে
 পুরনো সেই দিনের কথায় স্বপ্নাগারে।

তোমার ভিড়ে যত আলোয়
 তবুও নিভে পড়ে আছি আমরা যারা,
 অতীত হয়ে তোমার ঘরে
 কথায় সুরে ইচ্ছে করে ফিরতে,
 পুরনো সেই দিনের কথায় স্বপ্ন হয়ে তোমায় ছুঁতে,
 আমার ভেতরে অতীত ধরে হেঁটে হেঁটে ইচ্ছে করে হারাতে।

তোমাদের কাছে হাজার শব্দে ভেসে
 আমরা এসে আজ ভিড়ে মিলে মিশে,
 তবুও ঝড়ের বদ্ধঘরে
 শব্দ ভেঙে ভেঙে অতীত ছায়া স্পর্শ করে।

চেনা চেনা চোখে ছায়া-রং হারিয়ে যায়,
 নিভিয়ে দেয় সময় কত স্মৃতি,
 তবুও আমি তোমায় খুঁজে পেতে চাই
 পুরনো সেই দিনের সুরে ফেলে আসা রূপকে।

গানের আমি তুমি হারিয়ে যাব
 মেঘের পরে মেঘে স্মৃতির ঘরে
 সময় ভেঙে ভেঙে ভেঙে
 অন্য রোদের অন্য সময়ে…

পাথর বাগান
সমাধির বিশাল প্রান্তরে একা জেগে
 আমাদের তথাকথিত সভ্যতার যীশু,
 ধার করা কবিতার শ্যাওলা মাখা স্মৃতির পাথরে
 মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে এ মূল্যবোধ।

সাদা ক্রুশের মিছিল জুড়ে মিথ্যে অহংকার ভুল
 নায়কের ছদ্মবেশে নেয় নিঃশ্বাস,
 সম্মোহিত মৃত প্রজন্ম ফিরে আসে
 ফিরে আসে জন্মান্তরের বিবর্তনে।

আড়ালে হেসে যায় যুদ্ধের দেবতা
 ধ্বংসের সুর তোলে আবারও,
 পৃথিবীর বুকে আবাস গড়ে
 নতুন কোনো পাথর বাগান।

তোমাদের পাথর বাগানের সবুজ ঘাসে
 মিশে থাকে কত যুগের নষ্ট গল্প,
 কত পতাকার রঙ ধুয়ে যায় অভিশাপে
 আকাশের সাদা অনুভুতিতে শুধু ঘৃনা।

শহীদ স্মরণী
ভোর হোক তোমার জানালায়
 ভোর হোক ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া শহরে,
 শহীদ স্মরণীর পীচঢালা পথে
 রৌদ্র আসুক আশাবাদী অক্ষর হয়ে,
 বেঁচে থাকার উৎসাহে তোমার রাইফেল বিনীত হোক
 মানুষের অনন্তকালের ইতিহাসের পায়ে।

তোমার স্থল-মাইন আবাদি মাটির প্রাণরসে ভিজে কান্নাসিক্ত পৃথিবী হোক…

তোমার জানালায় মৃত শিশু পড়ে থাকে যুদ্ধাহত সময়ের বাসি রোদ
 কবির মত দুস্থ উদার হোক তোমার ব্যারাকে ব্যবহৃত প্রতিটি সৈনিক হৃদয়…

তোমার বিনিদ্র প্রহরার রাত
 শব্দ পাক মানুষের গরাদ ভাঙার,
 ভোর হোক তোমার অন্ধ চোখে
 যুদ্ধের অহর্নিশ ধ্বংসস্তূপ ইতিহাস…

তোমাকে
তোমাকে আলো ভেবে চোখ চেয়ে থেকেছি আঁধারে
 নীরব থেকে ডেকেছি আমার একা নির্জনে,
 স্বপ্নগুলো হারিয়ে ফেলে চেয়েছি যেতে তোমার আলোতে…

তোমাকে যখনই চেয়েছি সত্তার অন্তরালে সঙ্গোপনে
 তখনই জেনেছি আলো হয়ে আছো তুমি আমার আঁধারে,
 আর যখনই ভেবেছি বাঁধবো সীমা চারপাশে তোমাকে ঘিরে
 তখনই ফেলেছি হারিয়ে তোমাকে আপন আঁধারে।

যেখানে স্বর্গ ভাসে
 তোমার আমার আকাশ সেখানে অন্য রঙে আঁকা আয়নায় মৃত জলছবি,
 সেই ছবিতে অন্ধ কবি আমি (এক) হাতড়ে ফিরি আলোর সিঁড়ি।

অনিকেত প্রান্তর
তবুও এই দেয়ালের শরীরে-
 যত ছেঁড়া রঙ, ধুয়ে যাওয়া মানুষ, পেশাদার প্রতিহিংসা,
 তোমার চেতনার যত উদ্ভাসিত আলো-
 রঙ আকাশের মতন অকস্মাৎ নীল,
 নীলে ডুবে থাকা তোমার প্রিয় কোন মুখ,
 তার চোখের কাছাকাছি এসে কেন পথ ভেঙে…

দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে,
 বিঁধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ…

তবুও এইখানে আছে অবলীল হাওয়া
 জানালা বদ্ধ ঘরে আসে যায়,
 দেয়াল ধরে বেড়ে ওঠে মধ্যরাত
 তোমার ছায়ায় জমে এসে ভয়।
 আলোকে চিনে নেয় আমার অবাধ্য সাহস,
 ভেতরে এখন কি নেই কাপুরুষ অন্ধকার একা?
 তোমাকে ঘিরে পথগুলো সব সরে যায়
 রাত্রির এই একা ঘর ঝুলে আছে শূন্যের কাঁটাতারে…

দুটো মানচিত্র এঁকে দুটো দেশের মাঝে
 মিশে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ…

তবুও এই দুটি কাঁটাতার এ শহরের মত করে ভিড়ে ভরে গেছে,
 ঘুম আমার অচেতন কখন বেওয়ারিশ মাটির কাছে এসে
 সময় কে এপিটাফ ভেবে হাঁটু গেড়ে বসে…

তবুও এখানে বাতাস আসে দুরত্বের উৎসাহে
 শরৎ জমে আছে ঠাণ্ডা ঘাসে,
 তোমার চোখের মাঝে দূরের একা পথ
 এখানে ভাঙে না দুটো দেশে।
 মেঘের দূরপথ ভেঙে
 বুকের গভীর অন্ধকারে আলোর নির্বাসন,
 স্মৃতির মতন অবিকল স্বপ্নঘর বাঁধা স্মৃতির অন্ধ নির্জনে
 সময় থেমে থাকে অনাগত যুদ্ধের বিপরীতে।

এখানে সরণির লেখা নেই নাম কোন শহীদ স্মারকে
 তোমার জন্য জমা থাকে শুধু স্বপ্নঘর,
 জানালায় ঝুলে থাকে না শূন্যতার অবচেতন
 তোমার ঘরের অন্ধ আলোয় অদেখা এখানের নির্জন অনিকেত প্রান্তর..

তবুও তোমার ভাঙা স্মৃতি, ছেঁড়া স্বপ্ন, দোমড়ানো খেলাঘর-
 ছেঁড়া আকাশ, ভাঙা কাঁচে আলো আর অন্ধকার তোমার
 তোমার দেয়ালে কত লেখা,
 মানুষের দেয়ালে দেয়ালে বেঁড়ে ওঠে কাঁটাতার
 এখানে এ মহান মানচিত্রের ভাগাড়।

তোমার শূন্যঘরে ভরা স্মৃতি,
 জড় পাথরে লেখা নাম – শহীদ স্মরণী।
 জানালার বাইরে ভেসে গেছে দূরের আকাশ,
 বিঁধে আছি সময়ের কাঁটাতারে,
 বিঁধে আছো ছেঁড়া আকাশের মত তুমি..

তোমার স্বপ্নের দলা পাকানো বাসি কবিতা নষ্ট করে
 তোমার জানালার বাইরে শূন্য আকাশ তবুও অনিকেত এই প্রান্তরে..
 এখানে এখনও শরতের প্রচুর বাতাসে,
 সবুজের ঘ্রানে ভরে আছে অন্ধকার এ ঘর
 তোমার দেয়ালে এখন শুধু মৃত্যুর মৃত রেখাপাত…

তোমাকে কড়া নাড়ে স্মৃতিরা, ভাঙা স্বপ্ন
 ঘুমের মত নেশাময় কত কত শিশু,
 কত আলোর মশাল নিভে গেছে
 নিভে গেছে কত অচেনা ভয়।

তোমাকে এখন অপরিণত এক অচেনা স্মৃতি মনে হয়
 তোমার জানালার বাইরে শূন্যে দূরের স্বপ্নঘর,
 ঝুলে আছি নির্জনতায়,
 মৃত্যু কি অনিকেত প্রান্তর?

লীন
লীন জড়তায় নীল আকাশে
 ঝড় বাঁধা পড়ে ভাঙা মানুষে..

ভিজে সময় একা আঁধারে
 ভেসে গেছে রোদের রেখা
 ভেসে গেছে রোদে ভেসে গেছে..

দূর বহুদূর থেমে থাকা আকাশে-
 লীন আকাশে,
 সাদাকালো মেঘ ভেসে যায় হারিয়ে-
 নীলে হারিয়ে,
 ধুলো জমা স্মৃতি উড়ে যায় বাতাসে-
 ঝড়ো বাতাসে,
 ঝড় বাঁধা পড়ে ভাঙা মানুষে।

গন্তব্যহীন
আবার দেখা দেয় আলো
 অন্ধকারের আছে নিজস্ব শরীর,
 আলোর স্বপ্নগুলো লেখা আছে হাজার বছরের গায়,
 আলোর পৃথিবী কোথায়??

ভাবনার রুদ্ধ ঘরে একা বসে ভাবি,
 অন্ধকার দূরের দিকে খুঁজি তোমাকে।
 ভাবনার রুদ্ধ ঘরে একা বসে ভাবি,
 অন্ধকার দূরের দিকে খুঁজি তোমাকে।

আকাশের শেষে কি থাকে?
 কোথায় পড়ে আছে আমার শরীর?
 অন্ধ চোখে আলো কি শরীর পায়?
 এখানে আমি বিকলাঙ্গ পাথর।

তোমার সাজানো দৃশ্যে হাঁটছি গন্তব্যহীন,
 সম্মোহিত সময়ে রাত্রির নক্ষত্রকে খুঁজি অসীম শূন্যতায়,
 এখানে পড়ে থাকে পাথরের মত স্থবির মানুষ শেখানো বর্ণনায়।

দৃশ্যকে ভাবি পৃথিবী,
 স্বপ্নকে ভাবি তুমি,
 মৃত্যুকে মনে হয় গভীর ঘুম,
 আঁধারকে ঈশ্বর ভাবি।
 দৃশ্যকে ভাবি পৃথিবী,
 স্বপ্নকে ভাবি তুমি,
 মৃত্যুকে মনে হয় গভীর ঘুম,
 আঁধারকে ঈশ্বর ভাবি।

সকল আলোর প্রথম উৎস কি অনিশ্চিত আঁধারে?

আকাশের শেষে কি থাকে?
 কোথায় পড়ে আছে আমার শরীর?
 অন্ধ চোখে আলো কি শরীর পায়?
 এখানে আমি বিকলাঙ্গ পাথর।

তোমাকে এঁকেছি প্রতিটি দৃশ্যের রেখাবৃত্তের মাঝে,
 তোমার স্বপ্নকে আমি দিয়েছি প্রাণ,
 আমার স্বপ্নে তোমার করাঘাত।

নিজেকে হয়না চেনা আজও
 শুধু নেমেছি অতলে,
 এখানে একা বসে কতকাল?
 মৃত রাত্রিকে ডেকে দেয় বীভৎস আমার মুখ,
 অশরীর আমি-
 নিজেকে আজও ভয়।

ঘুনে খাওয়া রোদ
চারটি দেয়াল ক্রমশ
 সরে আসে বৃত্তের ভেতরে,
 কমে আসে আলো
 বস্তুর চারিপাশ এখন নীরব।

রঙ মূলত সাদা কালো..
 অন্ধকারের ছায়া অপছায়া বোধ
 অথবা খয়েরী নীল আকাশ-
 অনেকটা ঘুনে খাওয়া রোদ
 লেগে থাকে আকাশের গায়,
 সময়ের রঙহীন ক্যানভাস
 আমার জানালায়।

স্বপ্ন এখন এগারো সাতাশ
 শুন্যের ওপর দেখো,
 দেখো দাঁড়ায় সম্মোহিত শহর
 বাতাসের চোখে আজ..
 চোখে আজ নেশার উৎকট আলো।

রঙ মূলত সাদা কালো..
 অন্ধকারের ছায়া অপছায়া বোধ
 অথবা খয়েরী নীল আকাশ-
 অনেকটা ঘুনে খাওয়া রোদ
 লেগে থাকে আকাশের গায়,
 বিবর্ণ সময়ের জানালায়।

আজ ঘুনে খাওয়া রোদ..
 আমার শরীর মানে আমি ও ছায়া,
 ছায়া মানে মৃত রোদ আত্মহুতি দেয়
 তাদের আলোর যৌবন সারাক্ষণ,
 মেঘে মেঘে ঢাকা পড়ে চেনা অচেনা কত মুখ,
 ছায়ার শরীর-
 ছায়ায় বাঁচে আলোর ভয়,
 জানালায় আজ ঘুনে খাওয়া রোদ…

ধূসর সময়
নোনা স্বপ্নে গড়া তোমার স্মৃতি
 শত রঙে রাঙিয়ে মিথ্যে কোন স্পন্দন,
 আলোর নীচে যে আঁধার খেলা করে
 সে আঁধারে শরীর মেশালে…

নোনা স্বপ্নে গড়া তোমার স্মৃতি
 শত রঙে রাঙিয়ে মিথ্যে কোন স্পন্দন,
 আলোর নীচে যে আঁধার খেলা করে
 সে আঁধারে শরীর মেশালে…

আজ আমি ধূসর কি রঙিন সময়ে পথ হারাই তোমাতে।

জীবনের কাঁটাতারে তুমি অন্তহীনের অপূর্নতায়,
 বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও অনাবিল আকাশের শুন্যতায়।

তবুও আমি…

কি খুঁজি মানুষের বিষাদের চোখে
 কোথায় আলোর উত্সবে স্বপ্নের প্রতিবিম্ব ভাঙে,
 একা একা আমি থাকি দাঁড়ায়ে
 স্মৃতির ঝরো বাতাসে দুজনার শরীর মেশায়ে।

আজ আমি ধূসর কি রঙিন সময়ে পথ হারাই তোমাতে।

জীবনের কাঁটাতারে তুমি অন্তহীনের অপূর্নতায়,
 বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও অনাবিল আকাশের শুন্যতায়।

জীবনের কাঁটাতারে তুমি অন্তহীনের অপূর্নতায়,
 বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও অনাবিল আকাশের শুন্যতায়।

তবুও আমি…

One comment

  1. জীবনের কাঁটাতারে তুমি
    অন্তহীনের অপূর্নতায়,
    বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও
    অনাবিল আকাশের শুন্যতায়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s