মোটরবাইক কোথা থেকে কিনবেন?

মোটরবাইক কোথা থেকে কিনবেন?

ঢাকা শহরে মোটরবাইক কেনার জন্যে নিউ ইস্কাটন, মগবাজার এবং কাকরাইল, বিজয়নগরে প্রচুর ডিলার রয়েছে। আর সরাসরি শো-রুম কণ্ডিশনে কিনতে হলে কোম্পানী রেটে কিনতে হবে। এতে খরচ দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি পড়বে।

মোটরবাইক কেনার সময় যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে:

১. মাইলেজ কেমন (প্রতি লিটারে কত কিলোমিটার চলে)

২. পার্টস সহজলভ্য কিনা।

৩. ১৫০ সিসি এর উপরে বাংলাদেশে কোন মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি নেই (প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-এর মোটরসাইকেলগুলো ছাড়া)। ১৫০ সিসি-এর বাইকগুলোর মেইনটেনেন্স খরচ বেশি।

৪. নিকটস্থ সার্ভিস সেন্টার আছে কিনা। যদি আপনার পরিচিত কোন ওয়ার্কশপে অভিজ্ঞ মিস্ত্রী থাকে, তাহলে আমার পরামর্শ হলো আপনি পরিচিত ওয়ার্কশপে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সার্ভিসিং করিয়ে নিন।

৫. নিয়মিত হাইওয়েতে চালানোর জন্যে ভারী মোটরবাইক (১২৫ সিসি বা এর উপরে) কেনাটাই ভালো।

৬. সেকেণ্ডহ্যাণ্ড মোটরবাইক কেনার পক্ষপাতি আমি কোনদিনই ছিলামনা। তারপরেও যদি কেউ সেকেণ্ডহ্যাণ্ড মোটরবাইক কিনতেই চান, তাহলে ইঞ্জিনের কণ্ডিশন দেখে কিনুন। যেকোন অভিজ্ঞ মিস্ত্রীকে সাথে করে কিনতে যান। পাঁচ থেকে দশ বছরের পুরনো মোটরসাইকেলগুলো লিটারে ২৫-৩০ কিলোমিটারের বেশি যায়না।

৭. চায়না, কোরিয়ান এইসব মেড মোটরবাইক কেনার চিন্তা না করাটাই ভালো। যেমন, জনশেং, ডায়াং ইত্যাদি। কারণ এইসব মোটরবাইক -এর রিসেল ভ্যালু নাই বললেই চলে। আর দুনিয়ার যত সমস্যা লেগেই থাকে। কাজেই দামে অল্প ভেবে এই সব সস্তা জিনিস কিনে ফাঁদে পড়বেননা আশা করছি। বাংলাদেশে রি-সেল ভ্যালুর দিক থেকে প্রথম হিরো-হোণ্ডা এবং তারপরেই বাজাজের স্থান।

৮. কেনার সময় টায়ারের ভেতর থেকে টিউব খুলে দেখে নিন অরিজিনাল টিউব পেলেন কিনা। দোকানীর মিষ্টি কথায় ভুলবেননা। সব পার্টস ঠিক মতো চেক করে নিন।

৯. ঢাকা শহরে চালানোর জন্যে ১০০-১২৫ সিসির বাইক-ই ভালো।

১০. ভেসপা (১৫০ সিসি) এখন আর বাংলাদেশে ইমপোর্ট হয়না। কিনতে হলে সেকেণ্ডহ্যাণ্ড কিনতে হবে।

মোটরবাইক কেনার পর কাগজ-পত্র কিভাবে করাবেন? কত খরচ পড়বে?

১. ১২৫ সিসি, ১৩৫ সিসি এবং ১৫০ সিসিতে সরকারী ফি (১৪,৩০০ টাকা), ব্যাংকে টাকা জমা, এবং বি.আর.টি.এ -এর ঘুষ বাবদ ১৭,০০০ টাকার মতো পড়ে যাবে।

২. ১০০ সিসিতে সরকারী ফি (১৩,৪০০ টাকা), ব্যাংকে টাকা জমা, এবং বি.আর.টি.এ -এর ঘুষ বাবদ ১৬,০০০ টাকার মতো পড়ে যাবে।

৩. ৮০ সিসিতে ১২,০০০ এর মতো খরচ পড়বে।

৪. বি.আর.টি.এ -তে গিয়ে নিজেও কাগজ করাতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে সময় অপচয় হবে অনেক বেশি। এর চাইতে যেখান থেকে বাইক কিনবেন, তাদেরকেই কাগজ-পত্রের জন্যে টাকা দিয়ে দিলে, তারাই নিজেদের লিঙ্ক-এর মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো আপনাকে ডেলিভারী দিয়ে দেবে।

৫. বি.আর.টি.এ-এর কাগজ ছাড়াও যে কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে গিয়ে ২০০ টাকা দিয়ে এক বছরের জন্যে একটা ইন্সুরেন্স করাতে হবে। বছর বছর এভাবে ২০০ টাকা দিয়ে ইন্সুরেন্স রিনিউ করাতে হবে।

মোটর সাইকেলের যত্ন নেবেন কিভাবে?

১. বাইরের চাকচিক্য ধরে রাখতে হলে বংশালে স্বল্প মূল্যে শাইনার ক্রিম পাওয়া যায়। নিজেই ঘষা-মাজা করে চকচকে করে রাখুন।

২. ব্র্যাণ্ড নিউ কেনার পর ৭০০-১০০০ কিলোমিটার চালানোর পরেই একটি সার্ভিসিং করিয়ে নিন। প্রথম সার্ভিসিং করানোর আগ পর্যন্ত গতি ৪০-৫০ কি.মি/ঘন্টা রাখুন। মনে রাখবেন, যত ঘন ঘন সার্ভিসিং করাবেন, তত বেশি আপনার বাহন সুস্থ্য থাকবে।

৩. প্রতি ২০০০-২৫০০ কিলোমিটার অথবা আড়াই থেকে তিন মাস পর পর নিয়মিত সার্ভিসিং করান।

৪. ভাল মানের মোবিল ব্যবহার করুন। আমি ব্যবহার করি ভিসকো ৩০০০, যার প্রতিটির দাম এখন প্রায় ৪০০ টাকা।

৫. একহাতে চালানো যে কোন ইলেকট্রনিক জিনিসই ভালো থাকে অনেক দিন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s